বুধবার ১০ জুন ২০২৬ - ০৯:৪৮
ধর্মীয় শিক্ষায় ‘উত্তম বাক্য’: রিজিক বৃদ্ধি, দীর্ঘায়ু ও জান্নাতের সুসংবাদ

ইসলামি নৈতিক শিক্ষায় মানুষের কথাবার্তাকে তার ব্যক্তিত্ব ও আধ্যাত্মিক অবস্থানের অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। একটি হাদিসে ‘উত্তম বাক্য’কে শুধু সামাজিক সৌহার্দ্য ও পারিবারিক ভালোবাসার মাধ্যমই নয়, বরং রিজিক বৃদ্ধি, আয়ু দীর্ঘায়িত হওয়া এবং আখিরাতে জান্নাত লাভেরও গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহীদ আয়াতুল্লাহ ইমাম খামেনেয়ী (রহ.) তাঁর দারসে খারিজ ফিকহের পাঠের সূচনায় একটি নৈতিক হাদিসের ব্যাখ্যা প্রদান করেছিলেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণীর আলোকে ‘উত্তম বাক্যের প্রভাব’ শীর্ষক সেই আলোচনার সারাংশ নিচে তুলে ধরা হলো:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন

আবু হামযা সুমালী ইমাম আলী ইবনুল হুসাইন অর্থাৎ ইমাম সাজ্জাদ (আ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:

القولُ الحَسَنُ یُثرِی المالَ

উত্তম বাক্য মানুষের সম্পদ বৃদ্ধি করে।

و یُنَمِّی الرّزقَ

এবং রিজিকে বরকত ও প্রাচুর্য দান করে।

و یُنسِئُ فی الأجل

এবং মানুষের আয়ু দীর্ঘায়িত করে।

و یُحَبِّبُ إلی الأهل

এবং তাকে পরিবার-পরিজনের কাছে প্রিয় করে তোলে।

শহীদ আয়াতুল্লাহ ইমাম খামেনেয়ী (রহ.) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, এগুলো উত্তম বাক্যের পার্থিব প্রভাব। ‘উত্তম বাক্য’ বলতে এমন কথা বোঝায়, যা শরিয়তের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মানুষের জন্য কল্যাণকর। যেমন আল্লাহ, নবী, কিয়ামত, দ্বীনী জীবন ও মানবকল্যাণের বিষয়সমূহ নিয়ে কথা বলা। একই সঙ্গে এ ধরনের কথা হাসিমুখে, সৌজন্যপূর্ণ আচরণে এবং মধুর ভাষায় প্রকাশ করা উচিত। কারণ উত্তম বাক্যের প্রকৃত অর্থই হলো সুন্দর ও শালীন ভঙ্গিতে কল্যাণকর কথা বলা।

و یُدخِلُ الجَنّة

আর এটি তার আখিরাতের প্রভাব; উত্তম বাক্য মানুষকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করে।
[আল-আমালী, শাইখ সাদূক, পৃষ্ঠা ৫০]

শিক্ষা
মানুষের ভাষা তার চরিত্রের প্রতিচ্ছবি। তাই সত্য, কল্যাণকর ও সৌজন্যমূলক কথা বলা শুধু সামাজিক সম্পর্ককে সুদৃঢ় করে না, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং আখিরাতের মুক্তির পথও সুগম করে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha